
Taratala Building Collapse : তারাতলার নির্মীয়মান গোডাউন ভেঙে এখনও পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গঠন করা হয়েছে SIT অর্থাৎ স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে অন্যান্য নেতৃবর্গ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন। বিপর্যয়ের প্রথম থেকেই উপস্থিত ছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্র পাল ও স্থানীয় বিধায়ক ও কোলকাতা পুরসভার কমিশনার। তারা সরেজমিনে ঘটনা খতিয়ে দেখেছেন। তারপরই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির রিপোর্টের সূত্র ধরে এখনও পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সৈয়দ মহম্মদ গুলজার, লেবার সাপ্লায়ার মহম্মদ আতাউল ও সুভাষ চৌধুরী। তবে, আরও অনেকে এই দুর্ঘটনার সাথে জড়িত বলে জানা যাচ্ছে। জড়িতদের কেউ রেহাই পাবে না, তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে পাকড়াও করা হবে বলে পুরমন্ত্রী জানিয়েছেন।
ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে ১৮ জনকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী SSKM হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অধিকাংশের মাথায় ও বুকে চোট লেগেছে। তাদের মধ্যে ১৬ জনের অবস্থা স্থিতিশীল। তারা সংকটমুক্ত বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে। ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তারা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এখনও বহু মানুষ ভিতরে আটকে আছে। বাইরে থেকে অক্সিজেন সাপ্লাই দেওয়া হচ্ছে ও মাইকিং করে অভয় দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে রয়েছে কোলকাতা পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, দমকলকর্মী ও সেনাবাহিনী। ভারতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও নামানো হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তারা বিপর্যয়ের মোকাবিলা করছেন।
এদিকে, কেন এই নির্মীয়মান বিল্ডিং ভেঙে পড়ল সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ত্রুটিপূর্ণ এই প্ল্যান পেপারে সই ও কেন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর সাথে আরও বড়ো মাথা ও প্রভাবশালী জড়িত থাকতে পারে বা ঘটনার সাথে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যে সংস্থার টেন্ডারের অধীনে এই গোডাউন নির্মাণ করা হচ্ছিল তাদের কর্মকর্তাদেরও তদন্তের স্বার্থে পুলিশী হেফাজতে নেওয়া হতে পারে বলে SIT জানিয়েছে।
টন টন লোহার কলামের উপর পুরো স্ট্রাকচারটা দাঁড়িয়েছিল। কোনো কংক্রিটের কলাম তৈরী করা হয়নি। অ্যাসবেসটসের উপর সিমেন্ট, স্টোন চিপস ও লোহা দিয়ে বানানো হয়েছিল শেড। টাই বিম লাগানো ছিল । কিন্তু বিমের সাথে কলামের জয়েন্টের জায়গায় ত্রুটির কারণেই এই বিপর্যয় হয়ে থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। চা মজুত করার জন্য তিনতলা এই বিল্ডিংটা নির্মাণ করা হচ্ছিল। গোডাউনটির উপরের তলা ও মাজের তলার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। শুধুমাত্র নিচের তলার ছাদের কাজ চলছিল। এমতাবস্থায় ঘটে বিপর্যয়। এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী কলকাতার সমস্ত নির্মাণ কাজ ৩০ শে জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বিপর্যয়ের পর ১৮ ঘন্টা অতিক্রান্ত। এখনও পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৫ ; গ্যাস কাটার দিয়ে লোহা কেটে ভিতরের আটকে পড়া মানষদের উদ্ধার করা হচ্ছে। পাশে অস্থায়ী রাস্তা করা হয়েছে যাতে আহতদের দ্রুত বের করে হসপিটালে পাঠানো যায়। পুরো ঘটনাস্থল পুলিশ ঘিরে রেখেছে।
